যেভাবে ছাত্ররা শ্রদ্ধা করে কিন্তু প্রকাশ করে না, তেমন ভাবেই ওঁকে পরম শ্রদ্ধা করেছি; অমিয় দেবের নিবিড় কিছু স্মৃতি-কোলাজ

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: April 25, 2021 8:27 am|    Updated: May 9, 2021 5:39 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: April 25, 2021 8:27 am Updated: May 9, 2021 5:39 pm

শঙ্খ ঘোষ-এর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সংস্কৃতি জগৎ। দীর্ঘদিন তাঁর সান্নিধ্যে থাকা বন্ধু— সহকর্মীদের মন বিপুল বিষাদে ভারাক্রান্ত। ভারাক্রান্ততার মধ্যেও নিজের স্মৃতিপথ খুঁড়ে ‘ঘুমিয়ে পড়া অ্যালবাম’ থেকে স্মৃতির নানা স্থির ও চলমান মুহূর্ত তুলে আনেন, কোলাজ করে সাজিয়ে দেন অধ্যাপক ড. অমিয় দেব। দীর্ঘদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন ড. দেব। শঙ্খ ঘোষকে পেয়েছিলেন নিজের সহকর্মী ও বন্ধু হিসেবে।

১৯৬৬-তে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে যোগদান করেছিলেন শঙ্খ ঘোষ, ১৯৬৭-তে সরাসরি আলাপ ড. দেবের সঙ্গে। ড. দেব বিদেশে থাকার ফলে আলাপপর্ব শুরু হতে একবছর দেরি হয়েছিল। সে সময়ে ফ্যাকাল্টি ক্লাব নামের একটি জায়গায় বসত তাঁদের চা-চক্র এবং আড্ডা। পাশাপাশি বিভাগে তাঁদের কত বিচিত্র বিষয়ে আড্ডার প্রসঙ্গ উঠে আসে, অমিয়বাবুর স্মৃতিচারণায়। সেই আড্ডায় শঙ্খবাবু থাকতেন, সুবীর রায়চৌধুরী, মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌরীন ভট্টাচার্য। আড্ডায় খুব বেশি কথা বলতেন না। স্বল্পভাষী মানুষটি শুনতেন বরং বেশি। আর যখন বলতেন, একেবারে ঠিক ঠিক সময়ে একেবারে ‘ঠিক ঠিক’ কথা বলতেন, ঠিক ঠিক মানে যা বলা উচিৎ, তা নয়, সেই মুহূর্তে যা তাঁর সত্য বলে মনে হচ্ছে, সেটাই বলতেন।

এত অসাধারণ একজন কবি, কিন্তু আশ্চর্য যা, তা হল, কখনও নিজেকে দূরে রাখেননি। আবার কখনও যেচে কারও খুব কাছেও যাননি। একটা ঘরে দুটো চেয়ারের মধ্যে যে-দূরত্ব থাকে, তেমন একটা দূরত্ব তিনি বজায় রাখতেন।

অধ্যাপক শঙ্খ ঘোষ অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের বন্ধুত্বের কথা সর্বজনবিদিত! ওদের বন্ধুতাকে বলা হয়, ‘প্রবাদপ্রতিম’। ড. দেব এর ভাষায় সেই বন্ধুত্ব-কে একটিই শব্দে বিশেষিত করা যায়, ‘আশ্চর্য’। হাঁটতে হাঁটতে কত কিসিমের গল্প করতে করতে ওঁরা দুজনে পৌঁছে গিয়েছেন চৌরঙ্গী পর্যন্ত! আবার সেই প্রিয় বন্ধু অলোকের চলে যাওয়া তাঁকে নিদারুণভাবে বিঁধেছিল। কারওর কারওর কাছে হয়তো অলোকরঞ্জনের কবিতা শুনতে চেয়েছেন, আর ভিতরে ভিতরে গুমরেছেন। ঠিক এমনই আঘাত পেয়েছিলেন প্রিয় শিশির, অধ্যাপক শিশিরকুমার দাশ-এর চলে যাওয়ায়। স্বভাবোচিত বৈশিষ্ট্যে প্রকাশ করতে পারেননি সেই যন্ত্রণা।

তাঁর সমসাময়িক বন্ধু, সহকর্মী, অধ্যাপকেরা অনেকেই তাঁকে শঙ্খ’দা বলতেন কিন্তু ড. দেব কখনো শঙ্খ’দা বলতে পারেননি, বলতেন শঙ্খবাবু। আদতে অমিয়বাবু বরাবর তাঁকে শ্রদ্ধা করেছেন, পছন্দ করেছেন। যেভাবে ছাত্ররা শ্রদ্ধা করে, কিন্তু প্রকাশ করে না, বা পারেনা, তেমন ভাবেই ওঁকে শ্রদ্ধা করেছেন আর ওঁর লেখার অনুরাগী থেকেছেন চিরকাল। আর শঙ্খবাবু আজীবন অমিয়’কে স্নেহ করেছেন যথেষ্ট।

সেই নিবিড় সজলতা ও সখ্যের ইতস্তত ছবি ছড়িয়ে রয়েছে ড. অমিয় দেব-এর স্মৃতিকথনে, সেই কথা শুনেছেন বিতান দে। শুনুন, সেই নিভৃতচারণ।

লেখা: বিতান দে, সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল