তেত্রিশ কোটি দেবতার লিস্টিতে কলকাতা ও শহরতলির নতুনতম সংযোজন ‘লাইনেশ্বর’, ‘বেকারেশ্বর’ ও ‘হাইকোর্টেশ্বর’

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 17, 2021 11:03 pm|    Updated: May 17, 2021 11:03 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 17, 2021 11:03 pm Updated: May 17, 2021 11:03 pm

বিধাননগর স্টেশন ছেড়ে শিয়ালদহ অভিমুখে কাঁকুড়গাছির কাছকাছি এক জায়গায় ট্রেনলাইনের ঠিক পাশেই আপনি দেখতে পাবেন ছোট্ট একটা মন্দির। উপরে লেখা ‘লাইনেশ্বর শিব’। শিব ঠাকুরের এমন নাম দেখে চমক লাগাই স্বাভাবিক, তবে খোঁজখবর নিলে বিস্মিত হবেন আরও খানিক বেশি। কেননা হাল আমলে জন্ম নেওয়া এই শিব ঠাকুর নাকি ট্রেনলাইনের পাশেই ‘আবির্ভূত’ হয়েছেন দুর্ঘটনার হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে। লাইন পারাপারকারী আমজনতার কাছে লাইনেশ্বর তাই সর্বশক্তিমান। প্রণাম আর প্রণামীতে বেশ জাঁকিয়েই বসেছেন তিনি।

এরকমই আরেক আজব শিব ঠাকুরের দেখা মিলবে হিন্দমোটরের কাছে, নাম ‘বেকারেশ্বর’। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে ইনি কোন বিষয়ে স্পেশালিস্ট। আজ্ঞে হ্যাঁ। বেকার ছেলেপুলেদের চাকরি-বাকরি পাইয়ে দিতে ধরাধামে শিবের এই রূপে আগমন। চাকরিবাকরিহীন স্থানীয় ছেলেপুলেরাই চাঁদা তুলে মন্দির গড়েছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এখানে পুজো দিলে কেউ নাকি আর বেকার থাকে না!

ট্রেনের দুর্ঘটনা রোখা বলুন বা বেকার যুবকদের আশা জাগানোর সাপোর্ট সিস্টেম– ঘটনা-দুর্ঘটনার দুর্বিপাকে মানুষ যে অসহায় হয়েই গড়ে নেয় দেবতার রূপকল্প সে ব্যাপারটা কিন্তু নতুন নয়। পাথরখণ্ডের বুকে অদ্ভুতনামা শিবের রূপকল্পের কথা যদি বলতেই হয় তবে এই কলকাতা শহরেই রয়েছেন এমন একজন যার বয়স প্রায় অর্ধ-শতাব্দী পেরিয়ে গিয়েছে, তিনি বাবা ‘হাইকোর্টেশ্বর’। বলা বাহুল্য, কলকাতা হাই কোর্ট চত্বরেই তার অধিষ্ঠান।

কথায় বলে ‘বাঙালকে হাই কোর্ট দেখানো’। তা বাঙালকে হাই কোর্ট না-হোক, একবার হাইকোর্টেশ্বর দেখাতেই পারেন; চাইলে দেখে নিতে পারেন নিজেও! জায়গাটা ঠিক কোথায় জানতে ইচ্ছে করছে? অতীতের হেস্টিংস স্ট্রিট আর চার্চ লেনের সংযোগ স্থলে বা-হাঁতি ফুটপাথ ধরে অর্থাৎ অধুনা কীরণশঙ্কর রোড ধরে খানিক হেঁটে যান, কিছু দূর এগলেই চোখে পড়বে ‘হাইকোর্টেশ্বর নাথ মহাদেব’-এর থান। ‘ঔঁ হাইকোর্টেশ্বর নাথ মহাদেব’– মন্দিরের ফলকে এই নাম লেখা রয়েছে বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি মোট তিন ভাষায়। নিতান্তই ছোট্ট একটা মন্দির, তবে সুউচ্চ হাই কোর্ট ভবনের তাবড় দণ্ডমুণ্ডের কর্তাব্যক্তিরাও এখানে এসে নত হন ভক্তিতে। এই মন্দির কিন্তু নিতান্তই অর্বাচীন কালের, সে তুলনায় হাই কোর্ট ভবনের বয়স প্রায় এক শতাব্দী বেশি।

বাকিটুকু শুনে নিন…

লেখা: সানু ঘোষ
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল