মধ্যরাতের নিস্তব্ধতা পেরিয়ে এখনও ভেসে আসে ইংরেজি গানের সুর, ন্যাশানাল লাইব্রেরির নানা অতিপ্রাকৃত ঘটনার কথামালা

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: April 21, 2021 6:37 pm|    Updated: April 29, 2021 7:26 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: April 21, 2021 6:37 pm Updated: April 29, 2021 7:26 pm

কলকাতার ভূতের বাড়ির আলোচনায় এই বেলডেভিয়ার হাউস তথা ন্যাশনাল লাইব্রেরির নাম চিরস্থায়ী হয়ে গিয়েছে বহুদিন। কাজের সূত্রে যাঁদেরকে এই বাড়িটিতেই সময় কাটাতে হয় সে লাইব্রেরি কর্মী, পাহারাদার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ যারাই এর পাশ দিয়ে রাত-দুপুরে যাতায়ত করেছেন তাদের অনেকেরই অভিজ্ঞতা বলছে ‘এখানে কিছু তো আছে’।

এখনকার লাইব্রেরির রিডিং রুম যেটি সেকালে ছিল বল-নাচের হল। মধ্যরাতের নিঃশব্দতা ভেদ করে বন্ধ রিডিং রুমের ভেতর থেকে তাই প্রায়শই ভেসে আসে কনচের্তো-এর সুর, সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে অদ্ভুত এক মিহি গলায় ইংরেজি গান শুরু হয় কিছুক্ষণের মধ্যেই। গোটা কলকাতা শহর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন, এই পুরনো বাড়িটির ভিতরে কোনও এক আশ্চর্য মায়ায় বাতাসের বুকে ভেসে বেড়ায় অতন্দ্রিয় অশরীরী সাহেবিকেতার সুর, ভয়ে আতঙ্কে নাইট-গার্ডদের বুকের রক্ত হিম হয়ে যায়। কিন্তু যেই হেড-গার্ড আর নাইট শিফটের দারোয়ানরা রিডিং হলের দিকে ছুটে যান, অমনি থেমে যায় নাচ-গানের সেই উদ্দাম আসর। আবার সব শান্ত, যেন কোথাও কিছু নেই। কিন্তু ওই যে সবাই বলে এখানে ‘কিছু’ একটা আছে, সেকি আর এইটুকুতেই থেমে যায়! তাকে দেখা যায় অন্যত্র।

উত্তর দিকের সিংহ দরজা— মানে চিড়িয়াখানার দিকের গেট, এই নর্থ গেটে নাইট ডিউটি পড়লেই গার্ডরা নাকি অনুভব করে একটা চাপা অস্বস্তি, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যেটা বাড়ে, মেরুদণ্ডে বইয়ে দেয় ঠাণ্ডা স্রোত। এই গেটের সামনের চওড়া পিচ রাস্তা, চিড়িয়াখানার সামনে দিয়ে যা টালি-নালার ওপর আলিপুর-ব্রিজ পেরিয়ে চলে গিয়েছে সোজা রেসকোর্সের দিকে। এই গেট, ওই রাস্তা আর ওই পুলটাকে জড়িয়েই যে কত রকম কথা শোনা যায়—

এই নর্থ গেটটাই নাকি ছিল সাহেবের বাড়ির সদর দেউড়ি। এই গেট দিয়েই পালকি চেপে সাহেবরা যেতেন গড়ের মাঠ পেরিয়ে শহরের দিকে। এখনও এক-একদিন গভীর রাত্রে এই গেটে একটা পালকির ছায়া নাকি দেখা দিয়েই মিলিয়ে যায়।

এই গেটের গার্ড রুমের পেছন থেকেই শুরু হয়েছে বড় বড় বট অশ্বত্থ শিরীষ আর অর্জুন গাছের জঙ্গল, এসব গাছের বয়স নাকি কয়েক শো বছর, রাতের অন্ধকারের সেদিকে তাকালেই কেমন গা ছমছম করে, লাইব্রেরির গার্ডদের বিশ্বাস এখানে আছে, মেমসাহেব ‘জিন’। চাঁদের আলোর মতো ধবধবে সাদা তাঁর গায়ের রঙ, আর এতো লম্বা সেই মেমসাহেব যে বটগাছের নীচের ডালে বসে আছে কিন্তু তার মাথাটা ঠেকেছে ওই অনেক অনেক উঁচুতে ওপরের ডালে। তাঁর পরনে সাদা গাউন থেকে ঠিকরে পড়ছে জ্যোৎস্নার আলো।

শুনুন সেই রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার সম্পূর্ণ গল্প…

লেখা: সানু ঘোষ
পাঠ: অনুরণ সেনগুপ্ত
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল