‘অলিন্দ যুদ্ধ’ থেকে অশরীরী আনাগোনা, ডিসেম্বর এলেই কেন বেশি করে প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে মহাকরণ?

Published by: Sankha Biswas |    Posted: December 7, 2020 6:58 pm|    Updated: December 7, 2020 6:58 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: December 7, 2020 6:58 pm Updated: December 7, 2020 6:58 pm

ঐতিহাসিক ৮ ডিসেম্বর। এইদিনই মহাকরণে এক দুঃসাহসী অভিযান চালান বিপ্লবী বিনয় বসু, বাদল গুপ্তদীনেশ গুপ্ত। হত্যা করেন ব্রিটিশ অফিসার এন. ডি. সিম্পসনকে। আর সেই হত্যাকাণ্ডের হাত ধরেই লেখা হয়ে যায় ভারতের তিন অন্যতম প্রধান স্বাধীনতা সংগ্রামীর জীবনের এলেজি। ১৯৩০ সালে লালদিঘির পাড়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাটির সাক্ষ্য আজও বহন করে চলেছে কল্লোলিনী। মহাকরণ এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সচিবালয়। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ‘মহাকরণ অভিযান’ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিঃসন্দেহে। তবে ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থানমাহাত্ম্যে ভাস্বর এই ‘লালবাড়ি’ আবার “ইন্ডিয়া’স মোস্ট হন্টেড হিস্টোরিক্যাল প্লেসেস”–এর অন্যতম। আসুন শুনে নিই মহাকরণের ‘ভূত’ ও বর্তমান।

বেশ খানিকটা পিছিয়ে যেতে হবে। ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ। ব্রিটিশ কলকাতায় তৈরি হল নতুন এক স্থাপত্যের নকশা। প্রস্তুত করলেন স্যর টমাস লায়ন্স। ১৭৭৬–এ লায়ন্স তৈরি করলেন ১৯টি আলাদা আলাদা অ্যাপার্টমেন্ট। সারিবদ্ধ দোকানের মতো দেখতে এই অ্যাপার্টমেন্টগুলি তৈরি হয় ইউরোপীয় কেরানিদের জন্য। তাদের কাজ ছিল মূলত লেখালিখির। ‘write’ থেকে ‘writer’, কর্মীদের পেশার উপর ভিত্তি করেই এই ভবনের নামকরণ হল: ‘রাইটার্স বিল্ডিং’।

মধ্য কলকাতার পশ্চিমাংশের এই অঞ্চলটির আরেক বিশেষ পরিচিতি আছে।

বাগ অঞ্চলটির গড়ে ওঠা লালদিঘিকে কেন্দ্র করে। কলকাতা নগরীর গোড়াপত্তনকালে ডিহি কলকাতার অন্তর্ভুক্ত এই অঞ্চলটি ছিল শ্বেতাঙ্গ পল্লির আওতায়‌। উনিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে ভারতের তদানীন্তন গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসির নামানুসারে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চলটির নাম হয় ‘ডালহৌসি স্কোয়ার’। কিন্তু তা বর্তমানে পরিচিত বিনয়-বাদল-দীনেশ বাগ নামে। এত বড় নাম কীভাবে লোকের মুখে মুখে চলতে পারে? অগত্যা সংক্ষেপে হল বি.বা.দী. বাগ

১৯৩০-এর ৮ ডিসেম্বর। কর্মব্যস্ত কলকাতায় অন্যদিনের মতোই এক সকাল। তিন বাঙালি, দীনেশ গুপ্ত, বিনয় বসু ও বাদল গুপ্ত, ইউরোপীয় পোশাকে প্রবেশ করলেন রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মোড়া থাকলেও তাঁদের পোশাক দেখে কেউ একটিও প্রশ্ন করলেন না। তারপর? শুনুন…

লেখা: বিতান দে
পাঠ: শ্যামশ্রী সাহা
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল