ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হলেও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল নির্মাণ নিয়ে অসন্তোষ ছিল না বাঙালির

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 5, 2021 9:08 pm|    Updated: May 7, 2021 6:22 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 5, 2021 9:08 pm Updated: May 7, 2021 6:22 pm

ভারতীয় রাজা ও জমিদারেরাই ঢেলে দিলেন লক্ষ লক্ষ টাকা। ‘প্রিয়’ রানিমার স্মৃতিসৌধ বলে কথা! এত অর্থব্যয়ের জন্য অবশ্য সমালোচনাও শুনতে হয় কার্জনকে। নিজের দেশে সৌধ না বানিয়ে উপনিবেশ মুলুকের ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য এমন এলাহি কর্মকাণ্ডকে অনেকেই তাঁর নির্বুদ্ধিতা বা “কার্জন’স্ ফলি” (Curzon’s folly) বলে অভিহিত করতেন। সাদা মার্বেলের এই সৌধকে ব্যঙ্গ করে বলা হত ‘কার্জনের সাদা হাতি’। কিন্তু সমালোচনাকে উপেক্ষা করেই টাকা আসতে থাকে, চলতে থাকে কাজ। বহু মূল্যবান স্মারক দান করার অঙ্গীকার করেন দেশীয় রাজন্যবর্গ। ইংল্যান্ড থেকেও স্মারক আসার প্রতিশ্রুতি মেলে। ‘রয়্যাল ইনস্টিটিউট অফ ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস’-এর সভাপতি স্যর উইলিয়ম এমারসন স্থাপত্যটির নকশা প্রস্তুত করেন। স্বয়ং প্রিন্স অব ওয়েলস, এবং পরবর্তীকালে রাজা পঞ্চম জর্জ সস্ত্রীক এসে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে যান ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দের ৪ জানুয়ারি।

কলকাতার বুকে যখন সৌধটি তৈরি হচ্ছে, তখনকার কথা ভাবলে অন্য একটি কারণে বিস্মিত হতে হয়। বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধ আন্দোলন তীব্র রূপ ধারণ করেছে, জেগে উঠেছে জাতীয়তাবাদ, স্বদেশ ভাবনা। ব্রিটিশ শাসকের প্রতি ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। বঙ্গবিভাগ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়েছে আন্দোলনে। রবীন্দ্রনাথ মিলনের রাখি নিয়ে নেমে পড়েছেন পথে। উত্তাল হয়ে উঠেছে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনও। কিন্তু রানি ভিক্টোরিয়ার স্মৃতিসৌধ নির্মাণ নিয়ে কোনও ক্ষোভ, প্রতিবাদ, কিংবা প্রতিরোধ কিছুই নেই। একদিকে চলেছে সাম্রাজ্যবাদী শাসকদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রতিবাদ; আর অন্যদিকে কলকাতার ময়দানের সবুজ ঘাসে, যোধপুরের শুভ্র মাকরানা মার্বেল পাথরে গড়ে উঠছে ‘ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল’।

‘কলিকাতা সেকালের ও একালের’ নামে বইয়ে লেখক হরিসাধন মুখোপাধ্যায় ‘ইংলন্ডেশ্বরী’ ও ‘ভারতেশ্বরী’ ভিক্টোরিয়া সম্পর্কে লিখছেন, ‘এই মাতৃরূপিণী, দেবীরূপিণী ভারতের পালন-কর্তৃত্ব গ্রহণ করার পর হইতে ভারতবাসী নানা বিষয়ে সুখশাস্তি ভোগ করিতেছে।….তিনি ভারতীয় প্রজাগণকে বড়ই স্নেহের ও প্রীতির চক্ষে দেখিতেন।’ শিক্ষিত বাঙালি রানি ভিক্টোরিয়া ও নির্মীয়মাণ স্মৃতিসৌধটি সম্পর্কে ১৯১৫ সালে দাঁড়িয়ে কী ভাবতেন, তা চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে এই কথায়।

কাজেই ময়দানের ঘাসে মাথা তুলতে লাগল ভিক্টোরিয়ার স্মৃতিসৌধ। নির্মাণের দায়িত্ব ছিল কলকাতার ‘মার্টিন অ্যান্ড কোম্পানি’র। প্রায় ১৬ বছর লাগে নির্মাণ করতে। ১৯২১-এর ২৮ ডিসেম্বর ছ’হাজার দর্শক ও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতিতে তৎকালীন যুবরাজ প্রিন্স অব্ ওয়েলস এবং পরবর্তীকালের রাজা অষ্টম এডওয়ার্ড জনসাধারণের জন্য খুলে দিলেন স্মারক সৌধটির দরজা।

শুনুন…

লেখা: সানু ঘোষ
পাঠ: সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়, শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল