‘হরি ঘোষের গোয়াল’-এ গরু নয়, বাস করত মানুষ!

Published by: Sankha Biswas |    Posted: March 9, 2021 2:05 pm|    Updated: March 9, 2021 4:50 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: March 9, 2021 2:05 pm Updated: March 9, 2021 4:50 pm

কে এই হরি ঘোষ, যিনি নিজের গ্যাঁটের কড়ি খরচা করে একগাদা পুষ্যির ভরণপোষণ করতেন? ব্যাপারটায় লক্ষ করার মতো দিক হল যে, সেই প্রতিপালনের বহর এতই বেশি ছিল যে লোকমুখে সেই কথা ছড়িয়ে পড়তে বেশি হুজ্জুত লাগেনি। আর তা থেকেই এমন প্রবাদের জন্ম হয়েছে যে, ‘গোয়াল’ মানে হরি ঘোষের বাড়িতে, ‘গরু’ মানে ওইসব অকর্মণ্য লোকজন, আর স্বয়ং ‘গোয়ালা’ হরি ঘোষ– কেউই ধরাধামে না থেকেও চিরজীবী হয়ে আছেন প্রবাদের মহিমায়।

গ্যাঁটের কড়ি খরচা করে বেড়ালের বিয়ে দেওয়া বা ঘুড়ির লেজে পাঁচ শত টাকার ইনাম বাঁধার গল্প ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’য় উঠে এলেও হরি ঘোষ কিন্তু সেই শ্রেণির বাবু ছিলেন না। অকর্মণ্য লোকজনকে দয়াপরবশ হয়ে আশ্রয় দেওয়া, তাঁদের চোদ্দো পুরুষের ধোপা-নাপিত থেকে শুরু করে বিয়ে-শ্রাদ্ধ-মুখেভাতের খরচ জোটানোর মধ্যে নাম কেনার বাহদুরি ছিল না; বরং ছিল মানুষকে ভালবাসার, ভালরাখার এক নির্ভেজাল ভালোমানুষি। এই ভালোমানুষির সুযোগ নেওয়ার লোকও নেহাত কম ছিল না। আর সেকারণেই কাঁটাপুকুরের কাছে হরি ঘোষের বাসভবনের সদর অন্দর, রোয়াক, উঠোন, আনাচ-কানাচ ভরে গিয়েছিল ‘গরু’তে, অকর্মণ্য একঝাক নারীপুরুষ বাচ্চা-কাচ্চা বুড়ো-জোয়ানের দলে– যাঁদের খাওয়া-দাওয়ার চিন্তা নেই, জীবন জীবিকাও নেই। হরি ঘোষ সহায়! কথায় বলে না ‘রাখে হরি মারে কে’!

হরি ঘোষ ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মুঙ্গের দুর্গের দেওয়ান। বাংলা আর ফারসি ভাষায় ছিল বিশেষ দখল। ইংরেজিও জানতেন। এই ঘোষ পরিবার ছিল সেকালের কলকাতার এক নামী বনেদি পরিবার।

শোনা যায়, গৌড়ের রাজা আদিশূর যে পঞ্চ ব্রাহ্মণ ও পঞ্চ কায়স্থকে কনৌজ থেকে আমন্ত্রণ করে বঙ্গদেশে নিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন অন্যতম মকরন্দ ঘোষ। ইনিই হরির পূর্বপুরুষ। গৌড়ের দরবারে এঁদের স্থান ছিল। বংশের ষষ্ঠপুরুষ নিশাপতি ঘোষ চলে আসেন হুগলির বালি গ্রামে। সেখান থেকে পরবর্তী প্রজন্ম ব্যারাকপুরের চন্দনপুকুর গ্রাম হয়ে চলে আসে চিতু ডাকাতের আস্তানার কাছাকাছি, মানে এখন যাকে চিৎপুর বলে আর কী। শোনা যায় সেকালের সেই ‘চিত্রপুরী’তে ‘চিত্রেশ্বরীর মন্দির’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এই বংশেরই মনোহর ঘোষ।  মনোহর ঘোষের মৃত্যু হয় আনুমানিক ১৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে। ঘোষ পরিবার এরপর চলে যায় বর্ধমানে। ওলন্দাজ সাহেবের চাকরি করে প্রভূত ধনসম্পত্তি করেন মনোহর ঘোষের পুত্র সন্তোষ ঘোষ। তাঁর পুত্র বলরাম ঘোষ চন্দননগরের মঁসিয়ে দুপ্লের ব্যবসায়িক উপদেষ্টা হয়ে নিজের চার পুত্রের জন্য রেখে যান বিপুল ধনসম্পত্তি। এই চার পুত্রেরই একজন হরি ঘোষ।

তারপর?
শুনুন…

লেখা: সানু ঘোষ
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল