বৌদ্ধ শ্রমণ অনাগরিক ধর্মপালের উদ্যোগে গৌতম বুদ্ধের পবিত্র দেহাবশেষ সংরক্ষিত হয় খাস কলকাতায়

Published by: Sankha Biswas |    Posted: March 13, 2021 2:05 pm|    Updated: March 13, 2021 4:02 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: March 13, 2021 2:05 pm Updated: March 13, 2021 4:02 pm

গুপ্তধনের আশায় সাহেব তো ছুটলেন ঘোড়ার পিঠে। কিন্তু অত বড় আর ভারী একখানা বাক্স মাটির অত নিচ থেকে এই সরু কুয়োর দিয়ে ওপরে তুলে আনা চাট্টিখানি কথা নয়। ঝাড়া তিনদিন লেগে গেল। বাক্স খুলতেই তার মধ্যে থেকে নানারকম পাত্র বেরল। পাত্রের ঢাকনা খুলতেই দামি পাথর, সোনা আর রুপোর গয়না। উল্লাস শেষ হলে সাহেব দেখলেন, বিশাল সেই বাক্সে রয়েছে আরও কিছু কাঠের বাক্স। এতদিন মাটির তলায় থেকে সেগুলির অবস্থা খুবই খারাপ। কিন্তু চমক! বাক্সে রয়েছে মৃত মানুষের হাড় ও দেহভস্ম!

এ কার মৃত্যু-পরবর্তী সম্পত্তি তুলে আনালেন সাহেব? আত্মার অভিশাপ এবার লাগল বলে! সাহেব কিন্তু দমলেন না। চিঠি লিখলেন গোরক্ষপুরের জেলা জজ ভিনসেন্ট স্মিথ ও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভের লখনউ মিউজিয়ামের কিউরেটর আন্টন অ্যালয়েস ফ্যুরার-কে। কোথাও কোনও লিপি রয়েছে কি না, থাকলে তার অনুলিপি করে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন তাঁরা ক্ল্যাক্সটনকে। একটি পাত্রের উপরে এমনই কিছু লিপি খুঁজে পাওয়া গেল। সঙ্গে সঙ্গে তার যথাসম্ভব অনুলিপি করে সাহেব পাঠালেন। সেই লিপির পাঠোদ্ধার করে ভিনসেন্ট স্মিথ ও কিউরেটর আন্টন ফ্যুরার তো চমকে উঠলেন, এ যে স্বয়ং গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষ! অন্তত লিপিতে তো তাই-ই দাবি করা হয়েছে!

মহাবোধি সোসাইটির মন্দিরের বেদির পিছনে একটি নিটোল কালো মার্বেল পাথরের পাত্রে রাখা রয়েছে সেই পবিত্র পুতাস্থি। বৌদ্ধদের ভাষায় এই স্থানকে তাই বলা হয় ‘চৈত্য’ অর্থাৎ যেখানে বুদ্ধদেব আছেন। বৌদ্ধদের ‘চৈত্য’ হয় তিন প্রকার— ‘শারীরিক’– যেখানে বুদ্ধের দেহাংশ রয়েছে, ‘পারিভোগিক’– যেখানে বুদ্ধ ভোগ বা ব্যবহার করেছেন এমন কোনও বস্তু রক্ষিত আছে, আর ‘উদ্দেশিক’– যেখানে রয়েছে বুদ্ধের মূর্তি। মহাবোধি সোসাইটির এই ‘ধর্মরাজিকা চৈত্য বিহার’ হিসেবমতো প্রথম বর্গের। তবে পুতাস্থি ছাড়াও এখানে রয়েছে অপূর্ব সুন্দর কিছু বুদ্ধ মূর্তিও। মন্দিরের বেদিতে রয়েছে সোনালি রঙের একটি বুদ্ধ মূর্তি। আরেকটি বুদ্ধ মূর্তি আছে কাঁচের পাত্রে রাখা। এটি দিয়েছিলেন জাপানের সম্রাট হিরোহিতা। মন্দির আর চৈত্য ছাড়াও এখানে রয়েছে দুর্লভ কিছু বৌদ্ধ পুঁথির পাণ্ডুলিপি, সংশ্লিষ্ট গ্রন্থাগারে সেগুলি রাখা থাকে।

লেখা: সানু ঘোষ
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শুভাশিস চক্রবর্তী

পোল