হোলির ভাঙ-পুরান ঢাকার নূরানি-কলকাতার নানা বিখ্যাত পানীয়, শরবত সংস্কৃতির কিস্যা

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 27, 2021 7:36 pm|    Updated: March 27, 2021 7:36 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 27, 2021 7:36 pm Updated: March 27, 2021 7:36 pm

প্রাচীন ভারতে বসন্তে উদ্‌যাপিত হত মদনোৎসব ও কামমহোৎসব। বাৎস্যায়নের কামসূত্রে, ‘রত্নাবলী’ বা ‘মালতী মাধব’ নাটকে এর উল্লেখ আছে। উৎসবে পুজো হত মদনদেব আর রতির। কথিত আছে কামদেবকে শিব ভস্মীভূত করে দিয়েছিলেন, তাঁর বিরহকাতর স্ত্রী প্রায় চল্লিশ দিন শিবের তপস্যা করে স্বামীর প্রাণ ফিরিয়ে আনেন, মদন ও রতির সেই পুনর্মিলনের উৎসবই হল হোলি

সেকালে কলকাতার বেশ কিছু বনেদি পরিবারের নাচঘরে বা বৈঠকখানায় আয়োজন হত হোলির উৎসব। বিছিয়ে দেওয়া হত পুরু আবির। উপরে পাতা হত পাতলা কাপড়। নর্তকীর নাচ শেষে যখন কাপড়টি তুলে নেওয়া হত, দেখা যেত, নর্তকীর পায়ের চাপে আবিরের উপরে ফুটে উঠেছে পদ্মফুল, আর আরও কত নকশা।

রুপোর রেকাবি থেকে আতর মেশানো আবির উড়িয়ে, রুপোর পিচকারির সুগন্ধী রঙিন জল ছিটিয়ে, গেলাসে রঙিন পানীয় হাতে, হোলির ঠুমরি বা দাদরার তালে ইয়ার-দোস্তদের নিয়ে মাতাল হয়ে উঠতেন কলকাতার বাবুরা।

‘কলিকাতার ইতিবৃত্ত’ বইতে প্রাণকৃষ্ণ দত্ত হোলির যে ছবি তুলে ধরেছেন তা শুনলে বুঝবেন হোলির আমোদে ফুর্তি চিরকালই ছিল বাঁধভাঙা। দত্ত মশাই লিখছেন, ‘দোল উপলক্ষ্যে মিছিলওয়ালারা সুশ্রাব্য ও অশ্রাব্য গীতিতে পাড়া মাতাইয়া এবং নরনারী যাহাকে সম্মুখে পাইত, তাহাকে আবির ও পিচকারিতে ব্যতিব্যস্ত করিয়া চলিয়া যাইত। এমন অশ্রাব্য গীত এবং কুৎসিত সং প্রকাশ্যে পথে বাহির করিতেন যে, এখনকার লোকে তাহা কল্পনা করিতে পারে না। কর্তারা কিন্তু তাহা লইয়া আমোদ করিতেন। গৃহিণীও বালক-বালিকাদের সহিত শ্রবণ করিতেন।’

শরবত’ শব্দটা বাংলায় এসেছে ফারসি-তুর্কি অনুসরণে, তবে শব্দটির মূলে রয়েছে আরবি ‘শাবিরা’ শব্দটি। যার থেকেই এসেছে আরবি ‘শরবেট’। শরবতের সঙ্গে মধ্য প্রাচ্য এবং ইসলামি সংস্কৃতির যোগ তাই অচ্ছ্যেদ্য। তবে মহাভারতেও আছে শরবতের মতো পানীয়ের উল্লেখ। ইসলামি সংস্কৃতিতে শরবতের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। বহু মুসলমান রোজা ভাঙেন শরবত খেয়েই। এমনকি মুসলমান সমাজে বিয়ে পাকা হলেও খেতে হয় গোলাপের শরবত। মুঘল আমলেও সম্রাটদের প্রিয় ছিল গোলাপের পাপড়ি দেওয়া বিভিন্ন রকমের শরবত।

কুমোরটুলি ঘাটের কাছে রবীন্দ্র সরণি আর বি কে পাল অ্যাভিনিউ-এর ক্রসিং-এ পৌঁছে যান, রাস্তার মোড়ের ট্রাফিক কিয়স্কের পিছনে আপনার জন্য অপেক্ষায় আছে ‘শিব শক্তি ভাঙ শপ্‌’, ভাঙের শরবত তো মিলবেই, সাথে মিলবে ভাঙের গুলি, উপরে কাজু বসিয়ে কাগজের তবকে লাড্ডুও চেখে দেখতে পারেন বৈকি। আর এটা নিশ্চয়ই জানেন, এক গেলাস ভাঙের পর অন্তত কয়েকটা রসগোল্লা না-হলে চলে না, একটু এগিয়ে গেলে তাও মিলবে, চিত্তরঞ্জন সুইটস-এর কয়েকটা রসগোল্লা মেরে দিন, ঘণ্টা খানেক পরই, আপনি কিন্তু আর আপনি থাকবেন না।

শুনুন পুরোটা…

লেখা: সানু ঘোষ
পাঠ: কোরক সামন্ত
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল