পটলের দোর্মা, মনোহরা, পাকা আমের সরবত ইত্যাদি সহযোগেই রফা হয়েছিল কলকাতা, সুতানুটি এবং গোবিন্দপুর বিক্রির

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 27, 2021 2:41 pm|    Updated: May 27, 2021 3:44 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 27, 2021 2:41 pm Updated: May 27, 2021 3:44 pm

 কল্পনা মিশ্রিত সত্যি…

পটলের দোর্মা, ছানার মোহনমঞ্জরী, ধোঁকার ডালনা, চালকুমড়োর পুর– একটার পর একটা খাচ্ছেন, আর মোহিত হয়ে যাচ্ছেন। এখানেই কি শেষ নাকি! এরপর এল মিষ্টি। বৈকুণ্ঠভোগ, মনোহরা, গোলাপি রাবড়ি, ছানার পায়েস, বাদাম আর পেস্তা দেওয়া ক্ষীর। সবশেষে পেল্লায় নকশাদার কাঁসার গ্লাসে করে বরফের কুঁচি আর গোলাপের পাপড়ি দেওয়া পাকা আমের সরবত। বিরাট শ্বেতপাথরের টেবিল আর মাথার ওপর টানা পাখা। রঙিন কাঁচ লাগানো পাল্লার বিরাট জানালার ওপারে বাগানে তখন আবার শুরু হয়েছে হালকা বৃষ্টির খেলা।

পরিতৃপ্ত হয়ে খাওয়া শেষ করে সাহেব এসে বসলেন রায়চৌধুরীদের ঠাকুরদালান সংলগ্ন আটচালায়। মিঠে অম্বুরি তামাকের গন্ধ ভেসে গেল ভিজে বাতাসে। রায়চৌধুরীদের সঙ্গে এবার সাহেব শুরু করলেন কাজের কথা। খুবই গুরুতর কাজের কথা। ভৃত্যরা দাঁড়িয়ে রইল একটু দূরেই। কখন কী দরকার লাগে। এদিকে মুখোমুখি দুই পক্ষ। একদিকে বড়িশার সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের কর্তাব্যক্তিরা, মধ্যমণি বিদ্যেধর রায়চৌধুরী। আর অন্যদিকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি জব চার্নক। কথাবার্তা এগতে থাকে। মহাকালের হাতে ওঠে কলম। সূচনা হয় নতুন ইতিহাসের।

****

এরপর, সেই ১৬৯৮ সালেরই ১০ নভেম্বর। আকাশে বাতাসে উত্তুরে হাওয়ার ছোঁয়া। শীতের মিঠে হালকা হলুদ রোদ ছড়িয়ে রয়েছে এখানে-ওখানে। আবার সেই রায়চৌধুরীদের জমিদার বাড়ি। সুসজ্জিত বৈঠকখানায় আজ বেশ ভিড়। মোক্তারবাবু আরেকবার দলিলটায় ভাল করে চোখ বুলিয়ে নিলেন। পুরো দলিলটাই আগাগোড়া ফার্সি ভাষায় লেখা। ১৩০০ টাকার বিনিময়ে আমিরাবাদ পরগনা অধীনস্থ ডিহি কলকাতা, সুতানুটি এবং গোবিন্দপুর বিক্রি সুসম্পন্ন হল। রায়চৌধুরীদের পরিবারের সঙ্গে বিক্রেতা হিসেবে দলিলে নাম দেখা গেল মনোহর দেউ, রাম চাঁদ, রামবাহাদুর, প্রাণ এবং গন্ধর্বের। আর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে এই তিনটি অজ পাড়া গ্রাম সেদিন কিনে নিলেন জনৈক ওয়ালশ।

সেদিনের সেই বিক্রেতারা স্বপ্নেও ভাবেননি যে তিনটি গ্রামের অধিকার তাঁরা ১৩০০ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিলেন সেই তিনটি গ্রামই একদিন ব্রিটিশ কমনওয়েলথের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে পরিণত হবে। বনিকের মানদণ্ড রূপান্তরিত হবে শাসকের রাজদণ্ডে। ওই শহরকে কেন্দ্র করেই ব্রিটিশ রাজশক্তি একদিন গ্রাস করবে এই উপমহাদেশের এক বিশাল ভূখণ্ড। রং বদলাবে ইতিহাস। রক্তাক্ত হবে ইতিহাস।
শুনে নিন…
(তথ্যসূত্র- বনেদি কলকাতার ঘরবাড়ি)

লেখা: অনুরাগ মিত্র
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল