চার টাকা মাসিক মাইনে থেকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অগ্রদূত প্রযোজক: জামশেদজি ম্যাডানের সফরনামা

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 22, 2021 8:44 pm|    Updated: March 22, 2021 8:44 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 22, 2021 8:44 pm Updated: March 22, 2021 8:44 pm

ফ্রান্সের লুমিয়ের ব্রাদার ‘চলমান চিত্রমালা’ দেখানোর এক বছরের মধ্যেই কলকাতায় এর আগমন। বাংলা চলমান চিত্রমালার জনক হিরালাল সেন, ১৮৯৮ তাঁর দুই ভাইয়ের সঙ্গে মিলে কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ‘রয়্যাল বায়স্কোপ কোম্পানি’। সে সময়ে তাঁদের কোম্পানির খ্যাতি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
১৯০২ সালে জামশেদজি ম্যাডান ‘বায়োস্কোপ’ দেখানোর জন্য নিজের কোম্পানি তৈরি করলেন। নাম দিলেন, ‘দ্য এলফিনস্টোন বায়স্কোপ কোম্পানি’ অধুনালুপ্ত ‘রক্সি’ তৎকালীন ‘এম্পায়ার থিয়েটার’-এ তাঁরা ফিল্ম দেখানো শুরু করেছিলেন। নিজেদের থিয়েটার কোম্পানির বিভিন্ন দৃশ্য ছাড়াও তাঁরা বিদেশ থেকে বিভিন্ন ফিল্মের নির্বাচিত অংশ এনে এখানে প্রদর্শন করতেন। এই ফিল্ম দেখার চল এত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, থিয়েটার হলে জনতার ভিড় বাঁধ মানছিল না। এসব দেখে, ম্যাডান এক অভিনব পন্থা নিলেন। তিনি তাঁবু খাটিয়ে ফিল্ম দেখানো শুরু করেন। তখনকার গড়ের মাঠে অস্থায়ি এই ফিল্ম দেখানোর বন্দোবস্ত করলেন।

১৯১৭ নাগাদ জামশেদজি ম্যাডান টালিগঞ্জ অঞ্চলের ট্রাম ডিপোর কাছে বিশাল জায়গা কিনে বানালেন স্টুডিয়ো, নাম ‘ম্যাডান স্টুডিয়ো’। সমস্ত আধুনিক ব্যবস্থা এবং যন্ত্রের সঙ্গে শুরু হল স্টুডিওর পথচলা। এই সময়ে তাঁর সহায় হন, তাঁর পুরনো কোম্পানি ‘কোরিন্থিয়ান থিয়েটারে’র এক পার্সি কর্মী রুস্তমজি ধোতিওয়ালা। তাঁর দক্ষতা এবং কর্মতৎপরতা দেখে ম্যাডান তাঁকে কাজের প্রধান দায়িত্ব দেন। এই বছরেই রুস্তমজির বানানো ‘রাজা হরিশচন্দ্র’কে অনেকেই প্রথম বাংলা ছবি হিসেবে মান্যতা দেন। ১৯১৯ নাগাদ ম্যাডান প্রযোজিত এবং রুস্তমজি পরিচালিত দশ রিলের ‘বিল্বমঙ্গল’ বাংলার প্রথম কাহিনিচিত্র।

গুণীর কদর করতে জানতেন জামশেদজি। সেই সময়ের সমস্ত বড় তারকাকে তাঁর সঙ্গে কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ করান। শিশির ভাদুড়ি, অহীন্দ্র চৌধুরী, অমৃতলাল বসু, ধীরাজ ভট্টাচার্য, সীতা দেবী, প্রভা দেবী, কানন দেবী, দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, জ্যোতিষ বন্দ্যোপাধ্যায় নানা গুণীজনের সমাহারে গড়ে তোলেন ‘ম্যাডান থিয়েটার্স লিমিটেড’।

নির্বাক এবং সবাক ছবি মিলিয়ে তৈরি করেন অন্তত শ’ খানেক চলচ্চিত্র। কিন্তু সচেতনতার অভাবে আজ সেসব ছবির সিংহভাগই ইতিহাসের তথ্য ছাড়া কোথাও কোনও উপস্থিতি নেই।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রমেশচন্দ্র দত্ত, গিরিশচন্দ্র ঘোষদের লেখা থেকে নানা ছবি তৈরি হত। জ্যোতিষ বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত ‘বিষবৃক্ষ’, প্রিয়নাথ গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’, ‘দুর্গেশনন্দিনী’, ‘কপালকুণ্ডলা’, ‘দেবী চৌধুরাণী’; শিশির ভাদুড়ির পরিচালনায় ‘মোহিনী’, ‘কমলে কামিনী’– সব ম্যাডান স্টুডিও থেকে প্রযোজিত হয়। রবীন্দ্রনাথের ‘মানভঞ্জন’ গল্পটির নাট্য রূপান্তর করে চিত্রনাট্য সাজিয়েছিলেন মধু বসু। চিত্রনাট্য সংশোধন করে দেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। ১৯৩০-এর ১৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তির দিন তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন প্রেক্ষাগৃহে। ভূয়সী প্রশংসা করেন দর্শক।

বাকিটা শুনে নিন…

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল